ডিজিটাল বাংলাদেশ
“ শেখ হাসিনার উপহার, ডিজিটাল সরকার”

১২ ডিসেম্বর, ২০০৮ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা করে যে ‘২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশে’ পরিণত হবে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্য ও  উদ্দেশ্য
*    ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্তরে স্তরে অনুন্নত জীবনধারাকে বদলে বাংলাদেশের সমাজকে জ্ঞানভিত্তিক সমাজে রূপান্তর করা।
*    দেশের মানুষের জীবনযাপন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবস্থাপনা, কর্মপদ্ধতি, শিল্প-বাণিজ্য ও উৎপাদন, অর্থনীতি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনধারা ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালনা করা।
*    ‘ডিজিটাল টুলস ব্যবহার করে জনগণের উন্নত জীবন যাপনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন,  মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ, এবং সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার নিশ্চয়তা  দেয়া।
*    রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিকের  কাছে এই প্রযুক্তি সহজলভ্য ও সুলভ করা। যাতে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী  ডিজিটাল প্রযুক্তিকর্মী হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে গৃহিত কর্মসূচি
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নি¤œলিখিত কর্মসূচি নেয়া  হয়েছে:
*    সরকারের কাজ করার পদ্ধতি ডিজিটাল করা;
*    জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছানো;
*    ডিজিটাল ভূমিব্যবস্থা ;
*    বিচারব্যবস্থাকে ডিজিটাল করা;
*    ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা;
*     ডিজিটাল নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা;
*    শিক্ষাব্যবস্থাকে ডিজিটাল করা ;
*    কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্য ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তর;
*    যোগাযোগ ব্যবস্থায় ডিজিটাল পদ্ধতির প্রচলন করা; এবং
*     তথ্যের অবাধ চলাচলের জন্য ডিজিটাল ব্যবস্থা গ্রহণ করা ইত্যাদি।

অর্জন:
*    ৪,৫৫৪ টি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ৩৮৮ টি উপজেলা ডিজিটাল সেন্টার, ৬১ টি জেলা ডিজিটাল সেন্টার, ৩২৫ টি পৌর ডিজিটাল সেন্টার ও ৪০৭টি নগর ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এ সকল তথ্য সেবাকেন্দ্র থেকে অনলাইনে ১১৬ ধরনের সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
*    সারাদেশে স্থাপিত ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে রুরাল ই কমার্স কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
*    ডিজিটাল প্রযুক্তির বিকাশের ফলে বর্তমানে দেশে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি এবং ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৭ কোটি।
*    ৪৩ হাজার অফিস ও ২৫ হাজার ওয়েবসাইট নিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম ওয়েব পোর্টাল  ‘জাতীয় তথ্য বাতায়ন’ চালু হয়েছে।
*    জীবন-জীবিকাভিত্তিক তথ্য এক জায়গা থেকে খুঁজে পেতে বাংলা ভাষায় জাতীয় ই-তথ্যকোষ চালু হয়েছে।
*    ২৩,৫০০ টি মাধ্যমিক, ৫,৫০০টি মাদ্রাসা ও ১৫,০০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুম স্থাপিত হয়েছে।
*    প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত সকল পাঠ্যপুস্তক অনলাইনে প্রাপ্তির জন্য ই-বুক প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে।
*    ওয়েবসাইট ও এস এম এস-এর মাধ্যমে  পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও ভর্তি প্রক্রিয়া চালু হয়েছে।
*    দেশের সকল ভূমি রেকর্ড (খতিয়ান)-কে ডিজিটাল উদ্দেশ্যে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ’ডিজিটাল ল্যান্ড রেকর্ডরুম সার্ভিস’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
*    ১৩৫৫টি সরকারি অফিসে ই-ফাইলিং চালু হয়েছে।
*    ই- পেমেন্ট ও অনলাইন ব্যাংকিং চালু করা হয়েছে।
*    বাংলাদেশ ডাক বিভাগ ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার সার্ভিস (ইএমটিএস)-এর মাধ্যমে জুন ২০১৭ পর্যন্ত ৭,১২৫ কোটি টাকা প্রেরণ করেছে।
*     পোস্টাল ক্যাশ কার্ডের মাধ্যমে টাকা জমা, উত্তোলন ও ট্রান্সফারসহ নির্দিষ্ট আউটলেট থেকে কেনাকাটা সম্ভব হচ্ছে।
*    ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা, টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে একজন নাগরিক বিনামূল্যে এবং সহজে স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ নিতে পারছেন।
*    বাংলাদেশ রেলওয়ে অনলাইন ও মোবাইল টিকেটিং সেবা চালু করেছে।
*    ডিজিটাল কার্যক্রমের আওতায় নাগরিক পরিসেবার বিল পরিশোধ, ই-টিন গ্রহণ ও অনলাইন ট্যাক্স প্রদান সম্ভব হয়েছে।
*    ডিজিটাল মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
*    হজ্জ্ব ব্যবস্থাপনাকে আরো কার্যকর, সহজ এবং সুশৃংখল করার লক্ষ্যে অনলাইন হজ্জ্ব ব্যবস্থাপনা চালু করা হয়েছে।
*      কৃষি সম্পর্কিত সর্বাধুনিক প্রযুক্তি,  সেবা ও তথ্য সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে কৃষি কল সেন্টার চালু করা হয়েছে।
*    সকল সেবা ফরম এক ঠিকানায় প্রাপ্তির লক্ষ্যে ‘ফরমস বাতায়ন’ চালু করা হয়েছে।
*    আইটি  সেক্টর গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৪০০ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে। ২০১০ সাল থেকে প্রতিবছর সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষকে ই-সেবার সাথে পরিচিত করানোর লক্ষ্যে ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
*    তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশেষ অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার অর্জন করেছেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
*    আইসিটি খাতে গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে ব্যয় জিডিপি’র ০.৬ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে উন্নীতকরণ।
*    ২০১৮ সালের মধ্যে আইসিটি খাত থেকে বৈদেশিক আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ১ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
*    ব্রডব্যান্ড কভারেজ ৩০ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশে উন্নীতকরণ।
*    ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, পৌর ও নগর পর্যায়ে আরো ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা এবং সেবার পরিধি সম্প্রসারণ করা।
*    প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আরো কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন।
*    এলজিইডিসহ দেশের সকল সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ ও  পৌরসভায় ১০০% ই-জিপি বাস্তবায়ন করা।
*    ২০১৯-২০ সময়ের মধ্যে ১০০% জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সম্পন্ন করা। ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত ৯৫% জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে।
(তথ্যসুত্র: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর)