শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি
শিক্ষিত জাতি সমৃদ্ধ দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধু শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। তাঁর উদ্যোগে যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন বাংলাদেশে ৩৬ হাজার ১৬৫ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। সে সময় সরকারি শিক্ষকের পদমর্যাদা লাভ করেন দেশের ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭২৪ জন শিক্ষক। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিশেষ উদ্যোগ করেন। দেশের সব শিক্ষার্থীরা যার সুফল লাভ করছে শিক্ষার্থীরা।
কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলো নি¤œরূপ:
*     স্কুল যাওয়ার বয়সি প্রতিটি শিশুকে বিদ্যালয়ে আনা;
*     প্রাথমিক , মাধ্যমিক , এবতেদায়ী , দাখিল ও এসএসসি পর্যায়ে বিনামূল্যে পাঠ্যবই সরবরাহ;
*     মেয়েদের বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ;
*     শিক্ষা সহায়ক উপবৃত্তি প্রদান;

*     সকল শ্রেণির মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা সহায়তা উপবৃত্তি প্রদান;
*    পর্যায়ক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ জাতীয়করণ করা এবং
*    আইটিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনসহ শ্রেণিকক্ষসমূহে মাল্টিমিডিয়া ও ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিতকরণ।
অর্জন
*    দেশে শিক্ষার হার গত ৮ বছরে ৪৪ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৭২.৩০ শতাংশ উন্নীত হয়েছে।
*    গত ৮ বছরে প্রাথমিক , মাধ্যমিক , এবতেদায়ী , দাখিল ও এসএসসি পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে মোট ১৯০ কোটি বই বিতরণ করা হয়েছে।
*    ১ জানুয়ারি ২০১৭ সালে ৪.২৭ কোটি শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে ৩৬ কোটি ২২ লক্ষ বই বিতরণ করা হয়েছে।
*    ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে প্রাথমিক স্তরের ১ কোটি ৭ লক্ষ শিক্ষার্থীর মাঝে প্রথম কিস্তিতে ২৮৭ কোটি টাকার উপবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।
*    ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে পঞ্চম শ্রেণিতে সাধারণ ও টেলেন্টপুলে মোট ৮২,৪৫৪ জনকে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।
*    ২৬,১৯৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছে।
*    এ পর্যন্ত ১ লাখ ২০ হাজার শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণ করা হয়েছে।

*    সারাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ হাজার ১৭২টি কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে।
*    অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধির জন্য এযাবৎ ৫,৫৪৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
*    পাঠ্যপুস্তকের অনলাইন ভার্সন তৈরি করা হয়েছে।
*    ২০১৫ সাল থেকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের ব্রেইল পদ্ধতির বই বিতরণ করা হচ্ছে।
*    ১৭ লক্ষ শিক্ষককে কম্পিউটার , ইংরেজি , গণিতসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
*    উচ্চ শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত নতুন ৮টি  সরকারি এবং ৪২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়  স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।
*    ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত বেসরকারি মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসার মোট ১,১৬,৮৩৬ জন শিক্ষক ও কর্মচারিকে এম.পি.ও. ভুক্ত করা হয়েছে।
*    বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড থেকে ২০০৯-১৬ পর্যন্ত ৫১,৮৭৪ টি আবেদনের বিপরীতে ২,০৬৪ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
*     প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার হার শতভাগে উন্নীতকরণ ও গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ।
*     প্রাথমিক বিদ্যালয় ও এবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে ঝরে পড়া রোধ, পুষ্টি সহায়তা ও শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করা।
*     যে সব উপজেলায় সরকারি স্কুল ও কলেজ নেই সে সব উপজেলায় একটি  স্কুল ও একটি কলেজ জাতীয়করণ করা।
*     অটিস্টিক ও ¯œায়ু  বিকাশজনিত শিশুদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক মানের ন্যাশনাল একাডেমি ফর অটিজম অ্যান্ড নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডায়াবিলিটিজ ’ প্রতিষ্ঠা করা হবে।

(তথ্যসুত্র: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর)