পরিবেশ সুরক্ষা
শেখ হাসিনার নির্দেশ, জলবায়ু সহিষ্ণু বাংলাদেশ

বিশ্বব্যপি জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলা এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের মানুষের জন্য প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা, গবেষণা, উদ্ভিজ্জ জরিপ এবং বনজ সম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই পরিবেশ ও বন নিশ্চিতকরণ এ উদ্যোগের লক্ষ্য। বিজ্ঞান ভিত্তিক ও লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জনগোষ্ঠীর বসবাস উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিতকল্পে মোট বনভূমির পরিমাণ সম্প্রসারণ, বন ও বনজ সম্পদের উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও শনাক্তকরণ, দারিদ্র বিমোচন, পরিবেশ দূষণ রোধ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং টেকসই পরিবেশ উন্নয়নই এ কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
অর্জন
*     ২০০৫-০৬ সালের শতকরা ৭-৮ ভাগ থেকে বনভূমির বিস্তার ডিসেম্বর ২০১৬ সালে শতকরা ১৭.৪৮ ভাগে উন্নীত হয়।
*     ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে সরকারের নিজস্ব সম্পদ থেকে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড (ঈষরসধঃব ঈযধহমব ঞৎঁংঃ ঋঁহফ ) গঠন করা হয়েছে এবং এই ট্রাস্ট্রের তহবিলে ২৯০০ কোটি সরকার বরাদ্দ দিয়েছে।
*    জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় এযাবৎ আইলা দুর্গত উপকূলীয় এলাকায় ঘুর্ণিঝড় প্রতিরোধী বাড়ি নির্মাণ, দেশব্যাপী ৫৩৫ কিলোমিটার খাল পুন:খনন, ১২২ কিলোমিটার নদী বাঁধ সংরক্ষণ এবং ১৫.৪ কিলোমিটার উপকূলীয় বাঁধ নির্মাণসহ উপকূলীয় এবং বন্যাপ্রবণ এলাকায় ৭৪০টি গভীর নলকূপ খনন, ৫৫০টি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণাগার স্থাপন, ৪৯৭১ হেক্টর জমি বনায়ন এবং অফ-গ্রিড এলাকায় ১২,৮৭২টি সোলার হোম সিস্টেম স্খাপন  করা হয়েছে।
*    উন্নয়ন সহযোগী এবং দাতাদের সহায়তায় জলবায়ু পরিবর্তন রিজিলিয়েন্স ফান্ড গঠন করা হয়েছে।

*    ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩’ ০১ জুলাই ২০১৪ থেকে কার্যকর করা হয়েছে। এ আইনের আওতায় এযাবৎ শতকরা ৪৯.৮৪ ভাগ ইটভাটা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে রুপান্তর করা হয়েছে।
*    বায়ু দূষণ রোধের জন্য বিশ্ব ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ৪৮৬.৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ (ঈষবধহ অরৎ ্ ঝঁংঃধরহধনষব ঊহারৎড়হসবহঃ-ঈঅঝঊ ) প্রকল্পটি পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে।
*    ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে মোট ১৮২টি শিল্পকারখানায় বর্জ্য শোধনাগার প্লান্ট
 ( ঊভভষঁবহঃ ঞৎবধঃসবহঃ চষধহঃ-ঊঞচ) স্থাপিত হয়েছে। চামড়া শিল্প থেকে ঢাকা শহর ও বড়িগঙ্গা নদীর পরিবেশ দূষণ রোধকল্পে কেন্দ্রীয়ভাবে বর্জ্য পরিশোধনাগার স্থাপনপূর্বক হাজারীবাগের ট্যানারিগুলো সাভারের হরিণধরা এলাকায় স্থানান্তরের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
*    পরিবেশ সংরক্ষণে গৃহীত অন্যান্য আইনগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন-২০১০, পরিবেশ আদালত আইন-২০১০, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন-২০১০, বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন-২০১২।
*    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষেত্রে তাঁর সুদূরপ্রসারী উদ্যোগের জন্য জাতিসংঘের পলিসি লিডারশিপ শ্রেণিতে  চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ-২০১৫’ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
*     ২০২০ সাল নাগাদ বনভূমির হার ২০ শতাংশে উন্নীতকরণ।
*     ঢাকাসহ অন্যান্য শহরে বায়ুর গুণগত মান বাড়ানো এবং বায়ু দূষণ কমিয়ে আনা।
*     শিল্পকারখানায় বর্জ্য নির্গমন শূন্যতে নামিয়ে আনা।
*     ১৫ শতাংশ জলাশয় শুষ্ক মৌসুমে অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তোলা।
*     জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাব মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

(তথ্যসুত্র: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর)