একটি বাড়ি একটি খামার
“ শেখ হাসিনার উপহার, একটি বাড়ি একটি খামার, বদলাবে দিন তোমার আমার”

প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
দেশের দরিদ্র মানুষের জন্য স্থায়ী তহবিলের ব্যবস্থা করা এবং ঐ তহবিল আয়বর্ধক কাজে  নিয়মিতভাবে ব্যবহার করে স্থায়ী আয়ের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য দূর করা।
যেভাবে সমিতির তহবিল গঠিত হয়
১। একটি গ্রাম বা ওয়ার্ডের ৬০ জন দরিদ্র মানুষকে (৪০জন মহিলা ২০ জন পুরুষ) নিয়ে একটি সমিতি গঠন করা হয়।
২। সমিতির সদস্যগণ মাসে ২০০ টাকা সঞ্চয় করবেন। ৬০ জন সদস্য মাসে ২০০ টাকা করে সঞ্চয় করলে বছরে জমা হবে ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। তবে কম সঞ্চয় করলেও সদস্য হওয়া যায়।
৩। প্রকল্প হতে সঞ্চয়ের বিপরীতে সমপরিমাণ (১.৪৪ লাখ) টাকা বোনাস দেয়া হয়। তবে সঞ্চয়ের পরিমাণ কম হলেও প্রকল্প  থেকে সমপরিমাণ টাকা বোনাস দেয়া হয়।
৪। ৬০ জনের সমিতিকে বছরে ১.৫০ লাখ টাকা ঘূর্ণায়মান ঋণ তহবিল হিসেবে প্রকল্প থেকে অনুদান দেয়া হয়।  
৫। এভাবে ৬০ জন দরিদ্র মানুষের সমিতির ১ বছরে মূলধন হবে প্রায় ৪.৫০ লাখ টাকা এবং ২ বছরে প্রায় ৯.০০ লাখ টাকা।
গঠিত মূলধনের মালিকানা এবং সঞ্চিত অর্থ ভান্ডার
গঠিত মূলধনের মালিকানা স্থায়ীভাবে সমিতির। এ অর্থ সমিতির নামে ব্যাংক হিসেবে রক্ষিত থাকে। তবে অর্থ লেনদেনের জন্য প্রকল্পের অনলাইন ব্যাংকিং সফটওয়্যার ব্যবহৃত হয়। সকল লেনদেন ঐ সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়।
মূলধন গঠনের শর্ত
এ মূলধন গঠনে সরকারি সহায়তার প্রধান শর্ত হলো গঠিত মূলধন সমিতির সদস্যগণ স্থায়ীভাবে আয়বর্ধক কাজে ব্যবহার করবেন এবং নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে ৮% সার্ভিস চার্জসহ পুনরায় সমিতির হিসেবে জমা হবে ও পুনরায় ঋণ নেবেন। এ মূলধন শুধুমাত্র সমিতির সদস্যগণ ব্যবহার করবেন।
প্রকল্পের সমিতিভূক্ত হওয়ার সুবিধা
নিজের সঞ্চয় নিজেরই থাকবে। পাঁচ বছর পূর্ণ হলে সঞ্চয়ের উপর ৫% লাভ পাওয়া যাবে। সমিতির সদস্য হিসেবে দুই বছরে ৪৮০০/=টাকা সঞ্চয় জমা রেখে সমিতির তহবিল থেকে প্রথম বার ১৯ হাজার টাকা, দ্বিতীয় বার ২০ হাজার টাকা, তৃতীয় বার ৩০ হাজার টাকা, চতুর্থ বার ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়ে আয়বর্ধক কাজে ব্যবহার করা যায়। ঋণের কিস্তি সমিতি নির্ধারণ করে। অন্যান্য ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানের মতো সাপ্তাহিক/পাক্ষিক/মাসিক বাধ্যতামূলক কিস্তি পরিশোধের বাধ্যবাধকতা নেই। এক বছরের মধ্যে যেকোন সময় ফেরত দেয়া যায় এবং আবার ঋণ নেয়া যায়। এছাড়া আয়বর্ধক কাজে ভালো করলে প্রকল্প থেকে আরো বেশি পরিমাণ টাকা (এক লাখ টাকা পর্যন্ত) ন্যূনতম (৫%) সুদে ঋণ নেয়া যাবে। অন্য কোন প্রকল্প/প্রতিষ্ঠানে বা এনজিওতে এভাবে স্থায়ী তহবিল গড়ার সুযোগ নেই। এছাড়া পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের সদস্য হয়ে অল্প সুদে বেশি পরিমাণ ঋণ পাওয়ার সুযোগ আছে।
সদস্যপদ প্রত্যাহার
কোন সদস্য সমিতি ত্যাগ করতে চাইলে যে কোন সময় নিজের সঞ্চিত টাকা ৫% সুদসহ সমিতি থেকে চলে যেতে পারবেন। তবে পাঁচ বছর পূর্ণ হওযার আগে ত্যাগ করলে লভ্যাংশ পাবেন না।

অর্জন
*    সারাদেশে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আওতায় এযাবৎ ৫৫ হাজার ৭৮৬ টি গ্রাম উন্নয়ন সমিতি গড়ে উঠেছে।
*    সমিতির উপকারভোগী পরিবার সংখ্যা ২৯ লাখ ৩৫ হাজার ৮৪৩।
*    প্রকল্পের প্রত্যক্ষ উপকারভোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৪৭ লাখ।
*    বছরে প্রকল্পভুক্ত পরিবারে আয় বৃদ্ধি গড়ে ১০ হাজার ৯২১ টাকা।
*    প্রকল্প এলাকায় নি¤œ আয়ের পরিবারের সংখ্যা ১৫% থেকে কমে ৩% এ দাঁড়িয়েছে।
*    প্রকল্প এলাকায় অধিক আয়ের পরিবারের সংখ্যা ২৩% থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩১% এ উন্নীত হয়েছে।
ভবিষ্যত পরিকল্পনা
*    দারিদ্র্যের হার ২২.৮ শতাংশ থেকে ১৮.৬ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ২০২০ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্যের হার ৮ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে এ প্রকল্প কাজ করছে।
*    ২০২১ সালের মধ্যে বর্তমান দারিদ্র্যসীমার নিচের ১ কোটি পরিবারকে প্রকল্পভূক্ত করে প্রকল্পভুক্ত করে দারিদ্র্যকে শূণ্যের কোঠায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছে।
*    লিজকৃত মজা খাস পুকুর/ডোবা/ খাল পুন:খনন করে মাছ/হাঁস চাষের ব্যবস্থা করা।
*    শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিনার নিচের জায়গা ভরাট করে সবজি/ফলজ/ঔষধি গাছ চাষের আওতায় আনা।
*    বসত বাড়ি দুর্যোগ সহনীয় করে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

(তথ্যসুত্র: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর)