নারীর ক্ষমতায়ন
শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি, নারী জাগরণে অগ্রগতি

সর্বক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি এবং নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করার জন্য নারীর ক্ষমতায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নারীর সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রণয়ন করা হয়েছে  জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা ২০১১ ’। কৃষিকাজ থেকে শুরু করে এভারেস্ট পর্বতশৃঙ্গে নারীরা উড়িয়েছে বাংলাদেশের বিজয় পতাকা। নারী জনশক্তিনির্ভর তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। নারীর ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত কর্মসূচি দেশে নারীদের দৃঢ় সামাজিক অবস্থানে নিয়ে গেছে।
অর্জন
*    নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিতে নারী পুনর্বাসন বোর্ড , জাতীয় মহিলা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
*    নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নে ২০১১ সালে জয়িতা ফাউন্ডেশন গড়ে তোলা হয়েছে।
*    মহিলা হোস্টেল নির্মাণ, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণসহ আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।
*    নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ আইন ২০১৫ প্রণয়ন করা হয়েছে।
*    পাসপোর্টে মায়ের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
*    দেশব্যাপী ১২ হাজার ৯৫৬টি পল্লি মাতৃস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য , পুষ্টি, মা ও শিশুর যতœসহ যাবতীয় বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণ ও সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করা হচ্ছে।
*    বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি ৪ মাস থেকে ৬ মাসে উন্নীত করা হয়েছে এবং দরিদ্র ও গর্ভবতী মায়েদের মাতৃত¦কালীন ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।
*    সরকারি কর্মকান্ডে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ৪০টি মন্ত্রণালয়ে জেন্ডার সেনসিটিভ বাজেট তৈরি হচ্ছে।
*    জেলা ভিত্তিক মহিলা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত ১৩,৪৩২ জন শিক্ষিত বেকার নারীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
*    নারীর দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে এযাবৎ প্রায় ১৯ লক্ষ নারীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
*    আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।
*    নারীর ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রায় ১৫৪ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।
*    নারীর ক্ষমতায়নে আত্মকর্মসংস্থান কার্যক্রম (ওএঅ)- এর আওতায় বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের জন্য ট্রেড ব্যাংক তৈরি করা হয়েছে।
*    ভালনারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট (ঠএউ)- এর আওতায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১০ লক্ষ উপকারভোগীকে ২৪ মাসের জন্য ৩০ কেজি চাল প্রদান করা হয়েছে।
*    শহরাঞ্চলে কর্মজীবী ল্যাকটেটিং ভাতা-এর আওতায় ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে ১,৮০,৩০০ জন উপকারভোগীর মধ্য থেকে জেলা পর্যায়ে ৭১,১৯০ জন উপকারভোগীকে মাসিক মাথাপিছু ৫০০ টাকা হারে প্রায় ২২ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে।
*    নারীদের আত্মকর্মসংন্থানের জন্য ক্ষুদ্রঋণ তহবিল-এর আওতায় দেশের ৬৪টি জেলার ৪৮৮টি উপজেলায় ঘূর্ণায়মান প্রক্রিয়ায় প্রায় ১০৯ কোটি টাকা অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
*     নারীর ক্ষমতায়নে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৮.২০ লক্ষ নারীর প্রশিক্ষণ প্রদান;
*     সরকারি চাকরিতে নারী কর্মকর্তার হার ২০২০ সাল নাগাদ ২৫ শতাংশে উন্নীতকরণ;
*     ২০ থেকে ২৪ বছরের নারীদের সাক্ষরতার হার শতভাগে উন্নীতকরণ;
*     ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের আওতায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৫.৭৫ কোটি টাকা ঘূর্ণায়মান প্রক্রিয়ায় ৫৩,৮০৩ জন অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত নারীর মাঝে ৬,২৫৫ কোটি টাকা ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ;
*     নগর ভিত্তিক প্রান্তিক মহিলা উন্নয়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়) - এর আওতায় ২০২০ সালের মধ্যে ৪৫ হাজার শহর ভিত্তিক দরিদ্র, অসহায় এবং স্বল্প আয়ের নারীকে দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ প্রদান;
*     পরবর্তী ৫ বছরে ২৮,০৭০ জন শিক্ষিত বেকার নারীকে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতায়নে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি   করা;
*     জুন-২০২০ সাল পর্যন্ত আরো ৫৬,১০০ জন নারীকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উন্নয়ন এবং ক্ষমতায়নের উদ্যোগ করা হয়েছে;
*     গ্রামীণ নারীদের নেতৃত্ব সৃষ্টি করে স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য উদ্ধুদ্ধ করা;
*     ট্রেড ব্যাংকের প্রশিক্ষণ ট্রেডসমূহের উপর ২০১৭-২০১৮ অর্থবছর থেকে ৬৪টি জেলার ৪২৬টি উপজেলায় নির্বাচিত নারীদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে;
*     ভিজিডি-এর আওতায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আরো ১০ লক্ষ উপকারভোগীকে সুবিধা প্রদান করা হবে;
*     ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৬ লক্ষ দরিদ্র ও গর্ভবতী মা-কে মাতৃত¦কালীন ভাতা প্রদান করা হবে;
*     শহরাঞ্চলে কর্মজীবী ল্যাকটেটিং ভাতা-এর আওতায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২ লক্ষ নতুন উপকারভোগীকে মাসিক ৫০০ টাকা হারে ভাতা প্রদান করা হবে।
(তথ্যসুত্র: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর)