BSS

সার্বিয়াকে সহজে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করলো ব্রাজিল


সহজ জয় দিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের খেলা শেষ করলো পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্র্রাজিল। গতরাতে ‘ই’ গ্রুপের নিজেদের শেষ ম্যাচে ব্রাজিল ২-০ গোলে হারায় সার্বিয়াকে। এই জয়ে ৩ খেলায় ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ষোলোতে উঠলো ব্রাজিল। ম্যাচ হেরে ৩ খেলায় ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিশ্বকাপ শেষ করলো সার্বিয়া। গ্রুপের অন্য ম্যাচে সুইজারল্যান্ড ২-২ গোলে ড্র করেছে কোস্ট রিকার সাথে। ফলে ড্র করে শেষ ষোলো নিশ্চিত করলো সুইজারল্যান্ড। ৩ খেলায় ৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্স-আপ সুইজারল্যান্ড।
মস্কোতে ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই সার্বিয়ার সীমানায় আক্রমন করে ব্রাজিল। মধ্যমাঠ থেকে বল পেয়ে বাঁ-প্রান্ত দিয়ে মিডফিল্ডার ফিলিপ কুটিনহোকে পাস দেন অধিনায়ক নেইমার। বল পেয়ে সেটিকে গোলের পরিণত করতে পারেননি কুটিনহো।
শুরুটা যেভাবে করেছিলো, তাতে মনে হয়েছিলো সার্বিয়ার উপর চাপ বৃদ্ধি করবে ব্রাজিল। কিন্তু ব্রাজিলকে আক্রমন করার সুযোগ দেয়নি সার্বিয়া। তাই প্রথম ২৪ মিনিটে ঐ একটি আক্রমনই ছিলো তাদের। ২৫ মিনিটে দ্বিতীয়বারের মত আক্রমনে যায় ব্রাজিল। নেইমারের বাঁ-পায়ের শট রুখে দেন সার্বিয়ার গোলরক্ষক ভøাদিমির স্টয়কোভিচ।
অবশ্য দ্বিতীয় আক্রমনের আগে ম্যাচের ১০ মিনিটে ডিফেন্ডার মার্সেলোকে হারায় ব্রাজিল। গোঁড়ালির ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ত্যাগ করেন তিনি। তার জায়গায় মাঠে নামেন আরেক ডিফেন্ডার ফিলিপ লুইস।
দীর্ঘক্ষণ পর ৩৪ মিনিটে একটি আক্রমন করে সার্বিয়া। মিডফিল্ডার দুসান টেডিচ আক্রমনের রচনা করেছিলেন। কিন্তু সেটি সাফল্যের মুখ দেখনি। স্ট্রাইকার আলেক্সান্ডার মিট্রোভিচ গোলে পরিণত করতে পারেননি।
তবে ২ মিনিট পর দারুন একটি পাস থেকে দুর্দান্ত গোল করে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন পাওলিনহো। মধ্যমাঠ থেকে হাওয়ায় ভাসিয়ে পাওলিনহোকে বলের যোগান দিয়েছিলেন কুটিনহো। সেই বলে আলতো ছোয়ায় সার্বিয়ার গোলরক্ষকের মাথার উপর বল জালে পাঠিয়ে দেন পাওলিনহো। ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল।
পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে সমতা আনতে মুখিয়ে উঠে সার্বিয়া। এরপর ম্যাচের ৪০ মিনিটে পরিকল্পিত আক্রমনে যায় সার্বিয়া। কিন্তু ডি-বক্স থেকে বাঁ-পায়ে বলে শট নিয়ে সেটি গোলবারের উপর দিয়ে মারেন টেডিচ।
প্রথমার্ধের খেলা শেষ হবার শেষ মূর্হুতে লুইসের কাছ থেকে বল পেয়ে দূরপাল্লার শট নিয়েছিলেন নেইমার। কিন্তু সেটি গোলবারের পাশ দিয়ে চলে যায়। তাই পাওলিনহোর গোলে এগিয়ে থেকেই ম্যাচের প্রথমভাগের লড়াই শেষ করে ব্রাজিল। এসময় বল দখলেও এগিয়ে ছিলো ব্রাজিল। ৬১ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রাখতে সক্ষম হয় তারা।
দ্বিতীয়ার্ধে বল গড়ানোর বেশ কিছু সময় পর ভালো একটি আক্রমন করে ব্রাজিল। ৫৭ মিনিটে মধ্যমাঠ থেকে নেইমারের উদ্দেশ্যে লম্বা পাস দেন কুটিনহো। বল পেয়ে সার্বিয়ার বিপদ সীমানায় ঢুকে গোলরক্ষককে একা পেয়েছিলেন নেইমার। কিন্তু নেইমারের দুর্বল শট সার্বিয়ার গোলরক্ষক স্টয়কোভিচ পা দিয়ে কর্ণারের বিনিময়ে রক্ষা করেন।
নেইমারের এই ভুলের ৪ মিনিট পর গোলের সেরা সুযোগ হাতছাড়া করে সার্বিয়া। ডান-প্রান্ত দিয়ে ব্রাজিলের বিপদ সীমানায় বল ক্রস করেন মিডফিল্ডার ফিলিপ কস্টিচ। তার শট হাত দিয়ে সরিয়ে দেন ব্রাজিলের গোলরক্ষক এলিসন। কিন্তু বল গিয়ে পড়ে ফাঁকায় দাড়ানো স্ট্রাইকার মিট্রোভিচের সামনে। ঐ অবস্থায় মাথা নিচু করে গোলমুখে হেড নিয়েছিলেন মিট্রোভিচ। তার হেড গিয়ে আটকায় ব্রাজিলের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় মিরান্ডার পায়ে। ফলে নিশ্চিত গোল বঞ্চিত হয় সার্বিয়া।
সার্বিয়ার গোল বঞ্চিত হলেও, ৬৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুন করে ফেলে ব্রাজিল। নেইমারের কর্ণার থেকে হেডে গোল করেন গেল বিশ্বকাপের অধিনায়ক থিয়াগো সিলভা(২-০)।
এরপর ৮৬ মিনিটে গিয়ে আবারো বলার মত আক্রমন করে ব্রাজিল। সার্বিয়ার গোলমুখে জটলার মধ্যে হঠাৎই ফাঁকায় বল পেয়ে যান নেইমার। এবারও দুর্বল শট নেন তিনি। তাই এবারও নেইমারের শট ডান-হাত দিয়ে রুখে দিতে সমস্যা হয়নি স্টয়কোভিচের। শেষদিকে স্কোরলাইনে আর কোন পরিবর্তন না হলে ২-০ গোলে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল। সেই সাথে শেষ ষোলোর টিকিটও পায় নেইমারের দল।
শেষ ষোলোতে আগামী ২ জুলাই ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ মেক্সিকো।

 
1 2 3 4 5